পৃষ্ঠা

শরীর ও স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শরীর ও স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়ানোর 10 টি পদ্ধতি

 

 মশার কামড়ে বিরক্ত হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সন্ধ্যা নামতেই ঘরে ঢুকে পড়ছে মশা। মশার জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছেন তো আপনি।   মশার কামড় থেকে মানব শরীরে বাসা বাঁধতে পারে চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, পীত জ্বর, জিকা ভাইরাস মতো মারণ রোগ।  মশা তাড়ানো ধুপ, কয়েল, রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করে অনেক সময় মশার উপদ্রব কমলেও এইসব রাসায়নিক পদার্থ গুলি শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।  তাই আজকাল অনেকেই বাজার চলিত এই সমস্ত রাসায়নিক পণ্য গুলি ব্যবহার করতে চাইছেন না, আসুন দেখেনি একদম ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়ানোর 10টি পদ্ধতি।

 



নিম পাতা ও নিম তেল


নিমের ঔষধি গুণাগুণের কথা জানে না এমন মানুষ পাওয়া বিরল। নিপ পাতা ভাল করে রোদে শুকিয়ে গুড়ো করে নিন। সন্ধ্যায় ঘরে ধুনোর সঙ্গে গুড়ো নিম পাতা ছড়িয়ে দিন নিমের ধোঁয়ায় ঘরের মশা-মাছি পালিয়ে যাবে।
নিমের তেল মানব ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়াও নিম তেলে রয়েছে মশা তাড়ানোর বিশেষ গুণ। মশার কামড় থেকে বাঁচতে নিমের তেল ও নারিকেল তেল সমপরিমাণ মিশিয়ে হাত-পায়ের চামড়ায় লাগিয়ে রাখতে পারবেন।

 

 লেবু ও লবঙ্গ

লেবু আধা-আধি গোল করে কেটে ভেতরে অনেকগুলো লবঙ্গ গেঁথে দিতে হবে। লেবুর মধ্যে লবঙ্গ এমন ভাবে ঢোকাতে হবে যাতে লবঙ্গের মাথার দিকের অংশ (ফুল) বাইরে থাকে। এরপর লেবুর টুকরাগুলো একটি পাত্রে করে ঘরের কোনায় রেখে দিন।  এতে বেশ কিছু দিন মশার উপদ্রব কমবে। চাইলে এগুলিকে জানালা এবং দরজার পাশে রাখতে পারেন (যে সব জায়গা দিয়ে মশা ঘরে ঢোকে)। এতে মশা আর ঘরে ঢুকবে না। 

 

কর্পূর

কর্পূরের উগ্র গন্ধ মশা সহ অনেক পতঙ্গ একদমই সহ্য করতে পারে না। তাই মশা তাড়াতেও ভাল কাজ করে  কর্পূর ।  ঘরের সমস্ত সমস্ত দরজা-জানালা বন্ধ করে একটি পাত্রে এক টুকরো কর্পূর জ্বালাতে হবে।  প্রায় 20 - 30 মিনিট পর দরজা-জানালা খুলে দিন, দেখবেন সমস্ত মশা চলে গেছে।
তাছাড়া বাটিতে জল নিয়ে ঐ জলের মধ্যে কর্পূররে বড়ি দিয়ে ঘরের কোনায় কোনায় রাখুন, দেখবেন কর্পূরের গন্ধে ঘরে আর মশা আসবে না।  এটি একটি সাশ্রয়ী প্রতিকার।


পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতা কিন্তু মশা তাড়াতেও সমান কার্যকরী।  একটি গ্লাসে কিছুটা জল নিয়ে তাতে পাঁচ থেকে ছয় গাছি পুদিনাপাতার ডাল দিয়ে ঘরের টেবিলে রেখে দিন ।  দুই-তিন দিন অন্তর গ্লাসের জল পরিবর্তন করলে ভালো হয়।  মশা সহ অনেক পোকামাকড় পুদিনার গন্ধ সহ্য করতে পারে না, ফলে অনেক ধরনেরই পোকামাকড় ঘরে আসে না। এছাড়া কিছুটা পুদিনাপাতা মিক্সি করে জলে ভালো করে ফুটিয়ে সেই জল ঘরে ছড়িয়ে বা স্প্রে করে দিতে পারেন। এতেও ঘরে মশার উপদ্রব কমবে।

 

ন্যাপথলিন

কর্পূরের মত ন্যাপথলিনের উগ্র গন্ধ মশা সহ্য করতে পারে না। তাই মশা তাড়াতে ন্যাপথলিন ব্যবহার করা হয় ।  ছোট ছোট বোতলের মধ্যে 2-3 টি ন্যাপথলিন দিয়ে বোতলের মুখ খুলে ঘরের কোনায় কোনায় রেখে দিন, দেখবেন মশা  অনেকটাই কমেগেছে।  প্রসঙ্গত বলি এই পদ্ধতি অবলম্বন করে আমাদের অফিসে মশার উপদ্রব অনেকটাই কমেছে।

 

চা পাতা

ঘরোয়া পদ্ধতিতে মশা তাড়ানোর সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি হলো চা পাতা। বাড়িতে চা করার পর ব্যবহৃত চা পাতা ফেলে না দিয়ে তা ভাল করে রোদে শুকিয়ে নিন।  শুকনো চা পাতা পোড়ানোর ধোঁয়ায় মশা-মাছি ঘর থেকে পালিয়ে যাবে।

 

রসুন

রসুনের উগ্র গন্ধ পোকামাকড় এবং মশা-মাছি অপছন্দ করে।  অতিরিক্ত রসুনের রস মশার জন্য প্রাণঘাতী। পাঁচ ভাগ জলে এক ভাগ রসুনের রস অথবা 4-5 কোয়া রসুন ভালো করে থেঁতো করে কিছুটা জলে মিশিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে.  একটি স্প্রে বোতলে দ্রবণটি ছেকে ভরে সারা ঘরে স্প্রে করে দিতে পারেন। বা শরীরের যেসব স্থানে মশা কামড়াতে পারে, সেসব স্থানে স্প্রে করতে পারেন।

 

লেমন গ্রাস

 


 লেমন গ্রাসের একটা সুন্দর গন্ধ আছে,  কিন্তু এই গন্ধ মশাদের একদমই অপছন্দ। বাড়ির আশপাশে লেমন গ্রাসের ঝাড় রাখতে পারেন।  তাছাড়া লেমন গ্রাস দেখতেও মন্দ নয়। টবে লেমন গ্রাস লাগিয়ে সেটিকে সুন্দর করে কেটে-ছেটে ঘরেও রাখতে পারেন। দেখবেন ঘরে মশা একদমই থাকবে না।

 

সুগন্ধি ব্যবহার

রাতে ঘুমানোর আগে শরীরে খোলা জায়গায় আতর, পারফিউম বা সুগন্ধি লোশন মাখলে মশা আপনার কাছে কম যাবে। কারন মশারা কোনরকম গন্ধ পছন্দ করে না।

 

গাঢ় রঙ

সবশেষে বলব খয়েরী, লাল, কালো, নীল এত্যাদি গাঢ় রঙের প্রতি মশা আকৃষ্ট হয়। মশা গরমের প্রতিও সংবেদনশীল। তাই ঘর ঠান্ডা রাখুন, ঘরের দেওয়ালের রঙ হালকা রাখুন আর পোশাক ও পড়ুন হালকা রঙের।


পরিশেষে বলব, বাড়ির আশেপাশে নোংরা আবর্জনা পরিষ্কার রাখুন, কোথাও জল জমতে দেবেন না। এ.সি. ফ্রিজ ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গা পরিষ্কার রাখুন, যাতে দীর্ঘদিন জল না জমে থাকে।

ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য রসুন অনন্য, জেনেনিন রসুনের উপকারিতা এবং অপকারিতা


রত্যেক রান্না ঘরে রসুন এক অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ, স্বাদ ও গন্ধের জন্য আমিষ জাতীয় খাবার বিশেষ করে ডিম ও মাংস ছাড়াও বিশেষ কিছু রান্নাতে রসুন ব্যবহার করা হয়। প্রাচীন কাল থেকেই রসুন ঔষধি গাছ হিসাবে পরিচিত। প্রাচীন শাস্ত্রে উল্লেখ আছে মানুষ রসুনকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে প্রচুর পরিমানে রসুন ব্যবহার করে এসেছে।


garlic



রসুনে প্রচুর পরিমাণে সালফার যৌগ থাকে থাকে যাকে অ্যালিসিন বলা হয়। এই অ্যালিসিন কেবলমাত্র কাঁচা রসুনেই পাওয়া যায়। অ্যালিসিনের নানা ঔষধি গুণ আছে। রসুনে আছে প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট,  প্রোটিন তাছাড়া ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩ ও বি-৬, ফোলেট, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম আর জিঙ্ক। 

 প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা রসুনে নিম্নলিখিত খাদ্যগুণ থাকে


আর্দ্রতা ৬০.০০ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেড ২১.৮০ গ্রাম, প্রোটিন ৬.৩০ গ্রাম, আয়রণ ২.২০ মিলিগ্রাম, কপার ০.৬৩ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.৮৬ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩১০.০০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০.০০ মিলিগ্রাম, জিংক ১.৯৩ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৭১.০০ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০৬ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লোবিন ০.২৩ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন সি ১৩.০০ মিলিগ্রাম।


amloki



ঠান্ডা ও সর্দির ক্ষেত্রে রসুন খুবই উপকারী

 
যাদের স্থায়ীভাবে ঠান্ডা ও ফ্লুর সমস্যা আছে রসুন তাদের এটা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এক্ষেত্রে রসুন চা সবচেয়ে উপকারী। রসুন চা তৈরি করতে দুটো রসুনের কোয়া থেতো করে সাথে লবঙ্গ ফুটন্ত জলে দিন, স্বাদ অনুযায়ী আদা ও মধু যোগ করুন। আপনি ১০ মিনিটের মধ্যেই ভাল বোধ করবেন। তবে এটি শূধু ঠান্ডা নিরাময় করে না তবে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায় ।

হার্টের সমস্যার সমাধানে রসুন

 
হার্টের চিকিৎসায় রসুনকে সুপারফুড বলা হয়। রসুন হাইপার-টেনশন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া রসুন রক্তের ঘনত্বকে কমায় ও রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক রাখে। ফলে হার্টও সুস্থ থাকে। রসুনে থাকা অ্যালিসিনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিদিন  রসুন গ্রহণ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে। রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতেও এটি প্রচুর উপকারী। আর জমাট বাধা রক্ত পাতলা করতেও রসুন ব্যবহার করা হয়। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমে। 


Turmeric


ত্বক ও চুলের জন্য রসুন খুবই উপকারী

 
ফ্রি-র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব ও কোলাজেনের ভাঙ্গন থেকে রসুনের উদ্দীপক বৈশিষ্ট্যগুলি আমাদের ত্বককে রক্ষা করে। কোলাজেনের ভাঙনের ফলে আমাদের ত্বক বয়স্ক দেখায়। রসুন আমাদের ত্বকের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-এজিং-এর কাজ করে ও ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা রক্ষা করে।  তাছাড়া রসুন দাদরোগের মতো ছত্রাকের সংক্রমণ, ফাঙ্গাল ইনফেকশনে আক্রান্ত ত্বকে আশ্চর্যভাবে নিরাময় করে এবং একজিমার মতো  ত্বকের অসুস্থতা থেকে মুক্তি দেয়। ব্রণ শুকোতেও রসুন অত্যন্ত উপকারী। তাছাড়া ত্বকের সারফেসে থাকা ব্যাকটেরিয়াকেও রসুন ধ্বংস করে ও ব্রণর সম্ভাবনা কমায়।
চুল পড়া সমস্যায় আমরা সবাই পেঁয়াজের ব্যবহার সম্পর্কে জানি তবে এই সমস্যায় রসুনের কার্যকারীতা পেয়াজের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। এক কোয়া রসুনের টুকরো কেটে মাথার তালুতে ভালকরে ঘসুন। রসুনে থাকা প্রাকৃতিক তেল চুল পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে।

রসুন শরীরে অনাক্রম্যতা বাড়ায়

 
রসুনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি৬, সেলেনিয়াম আর ম্যাঙ্গানিজ থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ায়। আর রসুনের অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ থাকায় তা ভাইরাস বাহিত বিভিন্ন রোগের হাত থেকে আমাদের বাঁচায় ও শরীরে এইসব ক্ষতিকারক ভাইরাসের বিরুদ্ধে একধরণের অনাক্রম্যতা তৈরি করে। বিগত বহু বছর ধরে ব্যাকটিরিয়া, ছত্রাক এবং পরজীবী সংক্রমণের চিকিত্সার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে রসুন।
 




যৌন শক্তি বৃদ্ধিকারক হিসাবে কাজ করে রসুন

 
রসুন শুক্র ও শক্তিবর্দ্ধক হিসাবে কাজ করে। সুস্থ বীর্য তৈরিতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার। যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে রসুন খুব ভালো ফল দিয়ে থাকে৷ যৌন ইচ্ছা ফিরে আনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার খুবই কার্যকরী৷ প্রতিদিন নিয়ম করে দু’কোয়া  কাঁচা রসুন খেলে স্ত্রী-পুরুষ উভয়েরই যৌবন দীর্ঘস্থায়ি হয়। পড়ন্ত যৌবনে চলেগিয়েছেন এমন ব্যক্তিরা প্রতিদিন দু’কোয়া রসুন খাঁটি গাওয়া ঘি-এ ভেজে মাখন মাখিয়ে খেতে পারেন। তবে খাওয়ার শেষে একটু গরম জল বা দুধ খাওয়া উচিৎ। এতে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

অস্টিও-আরথ্রাইটিস কমাতে রসুন অব্যর্থ

 
বিভিন্ন স্টাডি থেকে জানা গেছে যেসমস্ত মানুষ রোজ সকালে উঠে নিয়ম করে এক বা দু’কোয়া কাঁচা রসুন খান, তাঁদের অস্টিও-আরথ্রাইটিসের সম্ভাবনা বহুগুণ হ্রাস পায়। কারণ রসুনের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য ডায়ালিল ডাই-সালফাইড নামক যৌগ থাকে, যা শরীরের কার্টিলেজকে ক্ষতিগ্রস্তকারী উৎসেচকের পরিমাণ কমায়। হাত-পায়ের হাড়ের সংযোগস্থলের ব্যথা ও প্রদাহ কমায় ফলে রিউম্যাটয়েড আরথ্রাইটিসের রোগীরা উপকার পান।

যক্ষ্মা প্রতিরোধক

 
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে রসুনে এত উপাদান যে যক্ষ্মা বা টিবি জাতীয় সমস্যায় প্রতিদিন রসুন সেবনে এই রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।

গাঁঠের ব্যথা থেকে মুক্তি দেয় রসুন

 
যেকোরকম ব্যথায় রসুনের তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন এবং ব্যথা এবং অস্বস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করুন। প্রতিদিন এটি ব্যবহার করলে অস্টিওপরোসিস, অস্টিওমালিয়া এবং আর্থ্রাইটিসের এর মত রোগের ব্যথাও কমতে বাধ্য।

আরও পড়ুন -  জেনেনিন সুগার কন্ট্রোলে রাখার কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি 


রসুন খাওয়ার নিয়ম

 
কাঁচা রসুনে উপকারিতা অনেক গুন বেশি থাকে।
সকালে একদম খালি পেটে কাঁচা রসুন খাওয়া উচিত।
রসুনের 2-3 টি কোয়া খুলে 10-15 মিনিট রেখেদিন, তারপর জল দিয়ে খেয়ে নিন।
রসুনকে 30 মিনিটের বেশি রান্না করলে তার গুণগুলি কমে যায়।
লেবুর রসের সাথে কাঁচা রসুন খেলে ওজন কমানোর জন্য ভাল ফল পাওয়া যায়।

রসুনের কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

 

  • প্রতিদিন 2-3 কোয়ার বেশি কাঁচা রসুন না খাওয়াই ভালো, বেশি রসুন খেলে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • কাঁচা রসুন বেশি খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় ফলে খুব ঘাম হয়।
  • খালি পেটে রসুন খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। কারণ রসুনে আছে সালফার যা পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং ডায়রিয়া হওয়ার পেছনে এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে।
  • মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে বেশি পরিমান রসুন না খাওয়ায় ভাল।
  • বেশি রসুন খেলে ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, ঘামাচি বা শুষ্কতা দেখা যায়।
  • দুগ্ধদানকারী মায়েরা এবং গর্ভবতী মহিলারা কাঁচা রসুন খেলে অনেক রকম সমস্যা দেখা দেয়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রসুন না খাওয়াই ভাল।
  • উচ্চরক্তচাপ কমানোর জন্য কাঁচা রসুন খুবই উপকারী কিন্তু অতিরিক্ত রসুন খেলে উল্টো প্রভাব দেখা দিতে পারে নিম্ন রক্তচাপ জনিত সমস্যা হয়।
  • যাদের শরীরে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না তাদের কাঁচা রসুন না খাওয়াই ভালো।
  • রক্তের ঘনত্ব কমানোর প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে রসুনের ব্যবহার সর্বাধিক। তাই যারা ‘ওয়ারফারিন’ ‘অ্যাসপিরিন’ ইত্যাদি ‘ব্লাড থিনার’ ধরনের ওষুধ সেবন করেন তাদের অতিরিক্ত রসুন খাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে আভ্যন্তরীন রক্তপাত শুরু হতে পারে।
  • রসুন বেশি খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। এর প্রধান কারণ রসুনে থাকা সালফার।



বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ 
 
 
 অতিরিক্ত রসুন খেলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না যা সার্জারীর জন্য বিপদজনক, গর্ভাবস্থায় ও দুগ্ধদানকারী মাতা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কাঁচা রসুন খাবেন না।

মুখে ঘা কেন হয় ? জেনেনিন সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায়ে মুখের ঘা প্রতিরোধের কিছু পদ্ধতি

মুখে ঘা


আজকাল প্রায়শয় একটি সমস্যা খুবই দেখা যাচ্ছে মুখের ভেতর গালের ভেতর বা জিভে বা ঠোটের ভেতর ঘা। অনেকেই বারংবার এমন সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন। মুখে বেশ বড় গর্ত নিয়ে ক্ষত বা ঘায়ের সৃষ্টি হওয়া, ব্যথায় মুখ নড়াচড়া না করতে পারা, ঝাল এবং নোনতা খাওয়া খুব মুশকিল বেশ যন্ত্রণাদায়ক। যদি এইরকম সমস্যায় প্রায়ই পড়েন তাহলে সেটি খুবই চিন্তার বিষয়। কারণ এ ক্ষত পরবর্তীতে বড় কোনো রোগ ডেকে আনতে পারে।
মুখের ভেতরের নরম চামড়া এবং ঝিল্লি আবরণ কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণত মুখে ছোট ছোট দানার মতো ঘা দেখা দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখাগেছে এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু বারবার মুখে ঘা হলে এবং তা না সারলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


anti body


মুখে ঘা কেন হয় ?

  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখাগেছে তীব্র পরিমাণে ভিটামিনের অভাব থাকলে মুখের ঘা হয়। যেমন ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন বি-১২ অথবা অন্য কোন ভিটামিন।
  • গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের মুখে ঘা হতে পারে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য।
  • দাঁতের ও মাড়ির কোনো রোগ থাকলেও সেই জীবাণু দিয়ে মুখে ঘা হতে পারে।
  • মুখের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ হলে মুখে ঘা হতে পারে। 
  • ধূমপান, পান, মদ  ইত্যাদি নেশা জাতীয় জিনিস খেলেও মুখে ঘা হতে পারে।
  • ডায়াবেটিস, এইডস, ক্যান্সার এমন রোগ আছে তাদেরও অনেক সময় মুখে ঘা হতে পারে।
  • মুখে অ্যালার্জি থাকলে ও ঘা হতে পারে।
  • রাতে ঘুম না হলে অথবা দেরি করে ঘুমালে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলে, অনেক বেশি দুশ্চিন্তা করলেও মুখে ঘা হতে পারে।
  • ঠাণ্ডা লাগলে মুখে ঘা হতে পারে।
  • মুখের মাড়ি আঘাতগ্রস্ত হয়ে ও অনেক সময় এই ঘা হয়। জোরে জোরে দাঁত ব্রাশ করলেও এ ঘা হতে পারে।
  • এছাড়া নিয়মিত সঠিকভাবে ব্রাশ না করলে, মুখের ভেতর অপরিচ্ছন্ন থাকলে, ঝাল-মশলা বা গরম খাবার বেশি খেলে মুখে ঘা হতে পারে। আবার অপরিস্কার ইনহেলার নিয়মিত ব্যবহার, স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ সেবন থেকেও মুখে ঘা হতে পারে।



মুখের ঘা দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায়


হলুদ

হলুদ গুঁড়ো নিয়ে তাতে সামান্য মধু মিশিয়ে সেই মিশ্রণ মুখের ভেতরে হওয়া ঘা-এ লাগান। দ্রুত উপকার পাবেন


যষ্টিমধু

যষ্টিমধু মুখের ঘা দূর করতে বেশ কার্যকরী। এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দুই কাপ জলে রাতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এই জল দিয়ে ভালকরে কুলি করুন।

টি ব্যাগ

দ্রুত ব্যথা এবং ইনফ্লামেশন দূর করে টি ব্যাগ। একটি টি ব্যাগ ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে সেটি ঘায়ের স্থানে লাগান। ব্যথা এবং ঘা দুই কমে যাবে।


Turmeric


ধনে পাতা

ধনে পাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করুন। দিনে কয়েকবার করে করলে আরাম পাবেন।

নারকেল দুধ

এক টেবিল চামচ নারকেল দুধের সঙ্গে মধু ভালভাবে মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রনটি ঘায়ের স্থানে লাগিয়ে রাখুন। দিনে তিন থেকে চারবার ব্যবহার করুন। 

তুলসি

তুলসির পাতায় অনেক ঔষধি গুণ। মুখে ঘা হলে কয়েকটি তুলসির পাতা চিবিয়ে নিন। তুলসি পাতার রসে ঘা সেরে যাবে। অথবা কয়েকটি তুলসি পাতাসহ জল দিনে তিন থেকে চারবার পান করতে পারেন।



অ্যালোভেরা জেল

 অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফিংগাল, অ্যান্টিভাইরাল উপাদান আছে যা ক্ষতও কমিয়ে দিতে পারেন। অ্যালোভেরা জেল বা জুস মুখের ঘা কমাতে সক্ষম।


টুথপেস্ট

টুথপেস্টের মধ্যে রয়েছে জীবাণুনাশক অনেক উপাদান। এছাড়া, এর মধ্যে রয়েছে কুলিং মিন্ট। যা ব্যথায় আরাম দেয়। 

ঘায়ের ব্যথা বেশি হলে উপসমের জন্য এক টুকরা বরফ নিয়ে ঘায়ের স্থানে রাখুন। অথবা ঠাণ্ডা জল দিয়ে কুলিকুচি করুন।




বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই নিবন্ধের জন্য কোনোভাবেই মুক্তাঙ্গন দায়ী নয়। ওপরে বলা তথ্য মেনে চলার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যা, জেনেনিন কিছু ঘরোয়া উপায়


শুধু শীতকাল নয়, শীত ছাড়াও প্রায় বছরই অনেকের পায়ের গোড়ালি ফাটে। পায়ের গোড়ালি ফাটার অনেক কারন রয়েছে যেমন, সারা শরীরের পুরো চাপটা পড়ে পায়ের গোড়ালিতে, তাছাড়া রাস্তার ধূলাবালি বা মাটির সংস্পর্শেও অনেকের গোড়ালি ফাটে। আবার অনেক সময় অযত্নের ফলেও এই সমস্যা দেখা দেয় গোড়ালি ফাটা খুবই কষ্টকর। অনেকের ক্ষেত্র দেখা গেছে সময় সময় রক্ত পর্যন্ত পড়ে। এর পেছনে রয়েছে সচেতন ভাবে পায়ের ত্বকের যত্নের অভাব। এই অভাব খুব সহজেই দূর করা যায়। আসুন জেনে নিই পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণগুলো ও তার ঘরোয়া প্রতিকার

Ankle sprain


পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ


  • শরীরে ভিটামিন এর অভাব হলে পা ফেটে থাকে।
  • ক্যালসিয়াম, জিংক ও আয়রনের ঘাটতি পা ফাটার অন্যতম কারণ।
  • বয়স বাড়ার কারণে ত্বকের পরিবর্তনে।
  • গোড়ালির ত্বক একটু মোটা।
  • মানবদেহে জল কম হওয়ার কারণে পা ফাটতে দেখা যায়।
  • খুব বেশি গরম জলে স্নান করলে।
  • অতিরিক্ত ওজন হলে।
  • পায়ে দীর্ঘ সময় কাদা-মাটি বা ধুলাবালি লেগে থাকলে।
  • দীর্ঘক্ষণ ভেজা পরিবেশে বা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় এ থাকলে।
  • পায়ের যত্নের অভাব।
  • অপরিচ্ছন্ন জুতো বা জুতোর সাইজ ঠিক না হলে।
  • দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয় যাদের।
  • পুষ্টির অভাব।
  • ডায়বেটিস রোগীদের স্নায়ুজনিত সমস্যার কারণে।
  • থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, সোরিয়াসিস, একজিমা, ইত্যাদি কিছু রোগের কারণে হতে পারে।
  • শুষ্ক জলবায়ু।
  • নিষ্ক্রিয় ঘর্মগ্রন্থি।
  • জেনেটিক বা বংশগত কারণে।

Mouth


পায়ের গোড়ালি ফাটার প্রতিরোধে কিছু ঘরোয়া উপায়


পাঠক বন্ধুকে বলব সমস্যা হওয়ার পর সচেতন হওয়ার চেয়ে আগে থেকে সচেতন হওয়াই ভালো। গোড়ালি ফাটা সমস্যা থাকলে আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়ায় সবচেয়ে ভালো। ঘরোয়া পদ্ধতিতে গোড়ালি ফাটা প্রতিরোধের কিছু উপায় নিচে দেওয়া হল –

নারকেল তেল, বাদাম তেল, অলিভ অয়েল, তিলের তেল, সরষের তেল ইত্যাদি ভেজিটেবল অয়েল গোড়ালির ফাটা অংশে লাগাতে পারেন ময়েশ্চারাইজার হিসেবে। সারারাত পা ঢেকে রাখতে হবে, এক্ষেত্রে সুতির মোজা ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরায় ভিটামিন এ, সি এবং ই থাকে। এই কারণে ত্বকের জন্য অ্যালোভেরার জেল খুবই কার্যকরী। হালকা গরম জলে ভালকরে পা ধুয়ে, পা-ঘষার পাথর দিয়ে গোড়ালি ঘষে পরিষ্কার করে ভাল করে অ্যালোভেরা জেল লাগান পায়ের গোড়ালি এবং তলায়। সারারাত সুতির মোজা দিয়ে পা ঢেকে রাখতে হবে। সকালে উঠে হালকা গরম জলে পা ধুয়ে নিন।


breast cancer



এক চা চামচ ভ্যাসলিন এর সাথে কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে ফাটা অংশে সারা রাত পায়ে লাগিয়ে রাখুন। অবশ্যই রাতভর সুতির কাপড় দিয়ে পা ঢেকে রাখুন, কয়েকদিনেই পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর হবে ও পা নরম মশ্রিণ হয়ে যাবে।

লেবুর রস গোড়ালির মৃত কোষগুলো তুলে ফেলে এবং পা ফাটা প্রতিরোধ করে। লেবুর রস পায়ে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে হালকা করে ঘষে মৃত কোষগুলো তুলে ফেলুন।

হালকা গরম জলে তিন - চার চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। সেই মিশ্রণে ১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে বসে থাকুন। পায়ের ত্বক অনেক নমনীয় হবে। এরপর জল থেকে পা তুলে ব্রাশ দিয়ে হালকা করে ঘষে


প্যারাফিন বা মোম আর সরিষার তেল একসাথে মিশিয়ে ফাটা জায়গায় লাগিয়ে রাখুন, ১০ মিনিট পর ভাল করে ওয়াশ করতে হবে। পর পর ১০-১৫ দিন করলে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়।
পাঁকা কলা চটকে পেস্ট তৈরী করে গোড়ালির ফাটা জায়গায় পুরু করে লাগিয়ে রাখুন, ১০ মিনিট পর জল দিয়ে ধুঁয়ে ফেলুন।

ওটমিল আর জোজোবা অয়েল এক সাথে মিশিয়ে এই মিক্সার দিয়ে ফুট স্ক্রাব করলে পায়ের ময়েশ্চারাইজার ঠিক থাকবে। আর পা ফাটার ক্ষেত্রে এই মিশ্রনের ঘন পেস্ট তৈরি করে ফাটা জায়গায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে জল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে (১দিন পর পর করলে ভাল উপকার পাওয়া যায়)।

মধু পায়ের যত্নে অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান। এক বালতি হালকা গরম জলে এক কাপ মধু মিশিয়ে নিন। তারপর সেই মিশ্রণে দুই পা ডুবিয়ে রাখুন এবং হালকা ম্যাসাজ করতে থাকুন । তারপর পা-ঘষার পাথর দিয়ে শক্ত চামড়া ঘষে পরিষ্কার করে দিন। এতে অনেক উপকার পাবেন।
বাজারে দশকর্মার দোকানে এভোক্যাডো পাবেন, এর সাথে নারিকেল তেল এবং পাঁকা কলা ভাল করে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে পায়ের ফাটা জায়গায় লাগান। গোড়ালি ফাটা ঠেকাতে এই মিশ্রন খুবই উপকারী।

পায়ের গোড়ালি ফাটা কমাতে কিছু খাবার

পা ফাটা চিকিৎসা আর প্রতিরোধে আপনার খাবারে রাখুন ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই এবং মিনারেলস। নিয়মিত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, সামুদ্রিক মাছ,


muktangan

রাজ্যবাসীর জন্য সুখবর, এবার থেকে ভেলোরে সম্পূর্ণ নিখরচায় পাবেন চিকিৎসা


vellore


সুখবর পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য খুব বড় একটা সুখবর। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গ বাসিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে ভেলোরের ক্রিশ্চান মেডিক্যাল কলেজ বা CMC তে। রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় যুক্ত হল ভেলোরের সিএমসি হাসপাতাল।

গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আরও ২টো হাসপাতাল যুক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তারা সেখানেও একই রকম সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে একটি ভেলোরের CMC মেডিক্যাল কলেজ এবং অপরটি এইমস। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি এই দুই হাসপাতালে সমান পরিষেবা পাবেন রাজ্যবাসী।’

vellore


এদিন এক অনুষ্ঠানে বাসের চালক ও বাস কনডাক্টরদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আনেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং তিনি ঘোষণা করেন, এবার থেকে এই সমস্থ ড্রাইভার এবং কনট্রাকটার ভাইরা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন।

প্রত্যেক বছরই হাজার হাজার পশ্চিমবঙ্গবাসী ভেলোর CMC তে জান অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এখানকার চিকিৎসা বিশ্বমানের, উন্নত প্রযুক্তি, অত্যধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্যাথলজি সর্বপরি চিকিৎসা কর্মীদের বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার সর্বজন বিধিত।

breast cancer


মেয়েদের যে ভুলগুলোর কারণে হচ্ছে স্তন ক্যান্সার, সতর্ক হোন



ভেলোরের এই বিশ্বমানের হাসপাতালটি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চলে আসায় প্রচুর সংখ্যক পশ্চিমবঙ্গবাসী উপকৃত হবেন তবে একথাও মাথায় রাখতে হবে, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় পার্শবর্তী ত্রিপুরা, আসাম সহ পূর্বভারতের বিভিন্ন রাজ্য সহ সারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্থান, ভুটান, নেপাল সহ অন্যান্য পার্শবর্তী দেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন ভেলোরে উত্তম চিকিৎসা নিতে। তাই বারবারই ভেলোরে রোগীর ভিড় একটু বেশি, এবার থেকে ভেলোর রোগীর ভিড় আরও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়

muktangan

ভেলোরে চিকিৎসা করাতে চান, জেনে রাখুন ভেলোর সম্বন্ধে বিস্তারিত খুঁটিনাটি


vellore



ভেলোর গিয়ে চিকিৎসা করাতে চান অথচ বুঝতে পারছেন না কিভাবে যাবেন? কোন হাসপাতালে দেখাবেন?  ডাক্তারের অ্যাপয়ন্টমেন্ট কি ভাবে করবেন?  ডাক্তারের সঙ্গে কোন ভাষায় কথা বলবেন? কোথায় থাকবেন?  ইত্যাদি ইত্যাদি। সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি পড়ুন আশাকরি ভেলোর সম্বন্ধে আর কোন সমস্যা থাকবে না, কারোর কোন রকম সাহায্য ছাড়াই আপনি ভেলোর থেকে চিকিৎসা করিয়ে ফিরে আসতে পারবেন।

পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম সহ পূর্বভারতের বিভিন্ন রাজ্য সহ সারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্থান, ভুটান, নেপাল সহ অন্যান্য পার্শবর্তী দেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন ভেলোরে যান উত্তম চিকিৎসা নিতে। এখানকার চিকিৎসা বিশ্বমানের, উন্নত প্রযুক্তি, অত্যধুনিক সব যন্ত্রপাতি এবং অত্যাধুনিক প্যাথলজি সর্বপরি চিকিৎসা কর্মীদের বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার। এখানে আপনি দেখতে পাবেন প্রচুর বাঙ্গালি ও বিদেশী রোগী।

ভেলোরের অবস্থান

দক্ষিন ভারতের তামিল নাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ে ভেলোর আবস্থিত

ভেলোরের হাসপাতাল গুলি

ভেলোরে অবস্থিত জগৎবিখ্যাত হাসপাতলটি হল ‘Christian Medical College and Hospital (CMC)’  CMC হাসপাতালে বেশিরভাগ মানুষ চিকিৎসা করাতে যানএছাড়াও ভেলোর এবং তার আশেপাশে অগণিত হাসপাতাল রয়েছেপ্রত্যেকটি হাসপাতালের চিকিৎসার মান বিশ্বমানেরতবে কিছু কিছু হাসপাতাল আবার ব্যয় সাপেক্ষ

ভেলোরে অবস্থিত কিছু হাসপাতালের নাম


Christian Medical College and Hospital (CMC)
Apollo KH Hospital Vellore

Christian Medical College

Nalam Medical Centre and Hospital

Sri Narayani Hospital & Research Centre
Raj Nursing Home, Vellore


এছাড়াও প্রচুর হাসপাতাল রয়েছে ভেলোর এবং পার্শবর্তী এলাকায় আপনাদের সুবিধার্থে কিছু হাসপাতালের ঠিকানা, ফোন নাম্বার ওয়েবসাইট, ইমেল এবং ঐ হাসপাতাল গুলি কোন কোন বিভাগে উন্নত তার একটি তালিকা শেষে দেওয়া আছে

ভেলোরে কিভাবে যাবেন ?

কোলকাতা থেকে ভেলোরের দুরুত্ব প্রায় ১৭০০ কি.মি. ট্রেনে করে যেতে চাইলে কলকাতা এবং হাওড়া থেকে প্রচুর এক্সপ্রেস এবং সুপারফাস্ট ট্রেন রয়েছে ভেলোরে যাওয়ার জন্য, আপনাকে কাটপাডি জংশনে নামতে হবে। সময় লাগবে ২৬-৩০ ঘন্টার মতো প্রায় কাটপাডিতে নেমে অনেক গাড়ি পেয়ে যাবেন ভেলোর যাওয়ার জন্য কাটপাডি থেকে ভেলোরের দূরত্ব কিলোমিটার বিমানে যেতে চাইলে আপনাকে নামতে হবে চেন্নাই বিমান বন্দরে


ডাক্তারের Appointment কিভাবে নেবেন

CMC হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে আপনি Online Offline দুইভাবেই Appointment নিতে পারবেন ভেলোরে যাওয়ার ১৫-২০ দিন আগে অনলাইনে CMC হাসপাতালের ওয়েবসাইটে গিয়ে Appointment করাতে পারেন বা সরাসরি ভেলোরে গিয়েও Appointment করাতে পারেন তবে যেহেতু অনেক দূর থেকে যাচ্ছেন তাই Online Appointment করে যাওয়াটাই সবচেয়ে উত্তম ওখানে গিয়ে Appointment করালে অনেক বেশি দিন থাকতে হবে আর বেশিদিন থাকা মানে আপনার অনেক খরচ বেড়ে যাবে এতে সময় এবং অর্থ দু সাশ্রয় হবে

চিকিৎসার মান অনুযায়ী Appointment দুই প্রকারের হয়ে থাকে --  General Appointment এবং Private Appointment General Appointment নিলে জুনিয়ার ডাক্তার রুগী দেখবেনGeneral Appointment অনলাইন বা Offline দুই ভাবেই নিতে পারেন General Appointment পেয়ে যাবেন অনেক কম সময়ে মোটামুটিভাবে - দিনের মধ্যে General Appointment পেয়ে যাবেন আর যদি আপনি Private appointment নেন তাহলে সিনিয়র ডাক্তার রুগী দেখবেন সেক্ষেত্রে Appointment পেতে অনেকদিন সময় চলে যায় তবে এখান গেলে অবশ্যই প্রাইভেট Private appointment নেওয়া সবচেয়ে উত্তম

অনলাইনে Appointment কিভাবে করবেন ?

অনলাইনে Appointment নিতে হলে আপনাকে সর্বপ্রথম জানতে হবে আপনার রোগের জন্য কোন Dept. এর চিকিৎসা নিতে চান সেই চিকিৎসার স্পেশালিষ্ট চিকিৎসকে অনলাইনে বেছে নিতে হবে অনলাইনে Appointment নিতে চাইলে প্রথমে CMC ভেলোর এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.clin.cmcvellore.ac.in লগইন করতে হবে


অফলাইনে বা ভেলোরে গিয়ে Appointment কিভাবে করবেন ?

CMC ভেলোরের প্রধান গেটে ঢুকলেই দেখতে পাবেন Silver Gate For New Appointment বড় করে লেখা রয়েছেওখানে গিয়ে আপনি আপনার রোগের সমস্যার কথা জানালেই ওরা নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্টে Appointment করিয়ে দিবে তবে এক্ষেত্রে আপনি -৩০ দিনের মধ্যে প্রাইভেট Appointment পেয়ে যাবেন ভেলোরে গিয়ে Appointment নিলে আপনাকে ভেলোরে অনেক দিন থাকতে হতে পারে তাই আমার মনে হয় আগে থেকে Online- Appointment করিয়ে তবেই ভেলোরে যাওয়া ভাল

কোথায় থাকবেন খরচ কত ?

হাসপাতালের কাছাকাছি প্রচুর থাকার হোটেল রয়েছে, হোটেলে ঘর পেতে কোনরকম অসুবিধা হয় না তাছাড়া ওখানে গেলে বুঝতে পারবেন প্রচুর বাঙালী রোগী এবং ব্যবসায়ী রয়েছে, সবার কাছ থেকে কম বেশি সাহায্য পেয়ে যাবেন হাসপাতালের কাছাকাছি হোটেলগুলিতে ডাবল বা ট্রীপল বেড রুম ৪০০-৫০০ টাকা থেকে ১২০০-২০০০ টাকায় পাবেন। আর একটু দুরে গেলে ৩০০ টাকার মধ্যে ডবল বেডের ঘর পেয়ে যাবেন

গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

ওষুধ সম্বন্ধে
ভেলোরে সাধারণত রোগীদের ৯০দিন এর ওষুধ দিয়ে থাকে ওখান থেকে ওষুধ কিনে নেওয়ায় ভাল, কারন ওখানকার ওষুধে গুনগত মান অনেক ভাল তাছাড়াও এখানে ঐসব ওষুধ নাও পেতে পারেন CMC হাসপাতালের মধ্যে ISSCC বিল্ডং-এ ফার্মেসি রয়েছে

ক্রিশ কার্ড (CRISS Card)
সি.এম.সি হাসপাতালে পেমেন্টের জন্য ক্রিশ কার্ড নামে এক ধরনের কার্ড পাওয়া যায়এই কার্ড একবার বানিয়ে নিতে পারলে ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবেক্রিশ কার্ডের সুবিধা হল হাসপাতালের ভেতরে যে কোন রকম পেমেন্ট এই কার্ডের মাধ্যমে করা যাবেএই কার্ডের কাউন্টার হাসপাতালের সব জায়গাতে আছে এবং লাইনও কম পড়ে, তাই টাকা জমা দেওয়ার জন্য বেশিক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হয় না। CMC হাসপাতালের ISSCC বিল্ডংএর ৪০২ নম্বর কাউন্টারে এই কার্ড বানানো হয়, Hospital No এবং Patient ID বললেই কার্ড বানিয়ে দেবেপরবর্তী কালে এই কার্ড সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ এই ৪০২ নম্বর কাউন্টারে এসে করতে হবেক্রিস কার্ডে টাকা আগে থেকে ভরে রাখতে হবে, এটিএম, মানি ট্রান্সফার অথবা ৪০২ নং কাউন্টার থেকেও কার্ডে টাকা ভরাতে পারবেন


ভেলোরে অবস্থিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের নাম 

 ঠিকানা, ফোন নাম্বার


Hospital
Department
Address & Phone No

C M C Vellore


Cardiology, Child Health/ Paediatrics, Dental And Oral Surgery, Dermatology, E.N.T, Endocrinology, General Surgery, Haematology
Head And Neck Surgery, Medicine, Neonatology, Nephrology, Obstetrics And Gynaecology
Ophthalmology, Orthopaedics, Paediatric Surgery, Plastic Surgery, Psychiatry, Pulmonary Medicine, Radiology, Rheumatology, Urology
Ida Scudder Road, Vellore., Vellore, Vellore, Tamil Nadu
Contact No: +91-41-62288000 / 41-62282004
Fax: 0416-2232035

Apollo KH Hospital Vellore

Eye, Dental, Children, Orthopedic, Maternity, Cardiology, Radiology, Psychiatric, Neurology, ENT, Nephrology, Urology, Anesthesiology, Gynecology, Dermatology.
Ranipet-Vellore Byepass Road, Melvisharam,, Vellore, Tamil Nadu
Email: enquiry@apollohospitals.com
Website: www.apollohospitals.com
Contact No: 04172-269581
Mobile:
Fax: 04172-269131

Christian Medical College


Eye, Dental, Children, Maternity, Orthopedic, Cardiology, Radiology, Psychiatric, Neurology, ENT, Nephrology, Urology, Anesthesiology, Gynecology, Dermatology.
Thorapadi P.O, Vellore, Tamil Nadu
Email: directorate@cmcvellore.ac.in
Contact No: 0416-2282010

Nalam Medical Centre and Hospital

 

Dermatology, E.N.T, Diabetology, General Medicine, General Surgery, Nephrology, Neurology, Obstetrics & Gynecology, Oncology, Ophthalmology, Orthopedics Surgery, Paediatric Medicine, Psychiatry, Physiotherapy, Pulmonary Medicine, Radiology, Reproductive medicine unit, Rheumatology,
44, Anor Rd, Sathuvachari, Vellore, Tamil Nadu
Email: 
Contact No: 0416-2254460 , 2254461
Mobile:
Fax: 0416-4300396

Sri Narayani Hospital & Research Centre

Anesthesiology, Cardiology, Dental Surgeries, Dermatology, E.N.T, Diabetology, General Medicine, General Surgery, Nephrology, Neurology, Obstetrics & Gynecology, Oncology, Ophthalmology, Orthopedics Surgery, Paediatric Medicine, Psychiatry, Physiotherapy, Pulmonary Medicine, Radiology, Reproductive medicine unit, Rheumatology, Gastroenterology, Urology
Thirumalaikodi, Vellore – 632 055.
Tamilnadu, India.
Mobile : +91 99524 16821
Phone : +91 416 2206300 /2206301 / 2206302
Email : info@snhrc.org




muktagan